এক ভয়াবহ আকস্মিক আক্রমণের রূপরেখা
২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন অনুপ্রবেশের পর, ইন্টারনেটে একটি অপপ্রচার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যাতে দাবি করা হয় যে ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে পিছু হটার নির্দেশ দিয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সমর্থকদের দাবি ছিল, একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের অজুহাত তৈরি করতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা পৌঁছানো বিলম্বিত করা হয়েছিল। বাস্তবে পুঙ্খানুপুঙ্খ সামরিক তদন্ত, অবমুক্ত করা যোগাযোগ নথিপত্র এবং হতাহতের তালিকা স্পষ্ট করে যে এমন কোনো নির্দেশ কখনোই দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত সেনাদল পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার মূল কারণ ছিল চরম গোয়েন্দা ব্যর্থতা, পদ্ধতিগত কৌশলগত স্থবিরতা এবং আক্রমণকারী বাহিনীর দ্বারা ইসরায়েলি কমান্ড ব্যবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া।
কমান্ড ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়
ইসরায়েলের সীমান্ত প্রতিরক্ষার দ্রুত পতনের প্রধান কারণ ছিল হামাসের অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিকল্পিত অনুপ্রবেশ অভিযান, যার প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেসের কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়। ড্রোন হামলা এবং নির্ভুল স্নাইপার ফায়ারের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা সীমান্ত প্রাচীর বরাবর স্থাপিত রিমোট-কন্ট্রোল অস্ত্র ঘাঁটি, সেলুলার যোগাযোগ টাওয়ার এবং নজরদারি সেন্সরগুলো ধ্বংস করে ফেলে। একই সাথে, ভারী অস্ত্রে সজ্জিত আক্রমণকারী দলগুলো রেইমে অবস্থিত গাজা ডিভিশনের সদর দপ্তর এবং নাহাল ওজ সামরিক ঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তিকেন্দ্রে অতর্কিত হামলা চালায়।
এই আঘাতগুলোর ফলে সম্মুখসারির অবস্থানগুলোর সঙ্গে শীর্ষ কমান্ডের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সদর দপ্তর রিয়েল-টাইম পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, ফলে তেল আবিব এবং সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডাররা অনুপ্রবেশের প্রকৃত ভয়াবহতা সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে ছিলেন। পিছু হটা তো দূরের কথা, সম্মুখসারির সৈন্য, নজরদারি অপারেটর এবং বেসামরিক ফার্স্ট-রেসপন্স দলগুলো হাতের কাছে যা অস্ত্র ছিল তা দিয়েই তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ শুরু করে। গাজা ডিভিশনের সাউদার্ন ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল আসাফ হামামি এবং নাহাল ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল জোনাথন স্টেইনবার্গ সহ শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সরাসরি আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন এবং যুদ্ধের শুরুর দিকেই শাহাদাত বরণ করেন।
কৌশলগত বিশৃঙ্খলার মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ
২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত কিবুতজ বি'রির যুদ্ধের ওপর আইডিএফ-এর বিশদ তদন্ত প্রতিবেদন সহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক নথিতে দেখা গেছে যে, সেনারা যুদ্ধে নামার জন্য কোনো আদেশের অপেক্ষায় বসে থাকেননি। বরং শত শত অফ-ডিউটি সেনা, কর্মরত স্পেশাল ফোর্স এবং পুলিশ কর্মকর্তারা গোলাগুলি ও রকেট হামলার খবর শোনামাত্রই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেসামরিক গাড়ি নিয়ে দক্ষিণের রণক্ষেত্রের দিকে ছুটে যান।
এই অনিয়ন্ত্রিত যাত্রার কারণে রুট ২৩২-এর মতো প্রধান যাতায়াত পথগুলোতে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, যেখানে হামাসের ঘাপটি মেরে থাকা দলগুলো আগেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছিল। আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন পর্যালোচনাগুলোর মূল পর্যবেক্ষণগুলো শুরুর দিকের পরিস্থিতির বাস্তব রূপ তুলে ধরে:
- চরম গোয়েন্দা অন্ধত্ব: হামলার আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন ছিল যে হামাস বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে চলবে; ফলে ইহুদি ছুটির দিনগুলোতে সীমান্ত প্রতিরক্ষা চৌকিগুলোতে স্বাভাবিক শান্তিকালীন স্বল্প জনবল মোতায়েন ছিল।
- কেন্দ্রীভূত সমন্বয়ের অভাব: ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ইউনিটগুলোর কাছে কোনো সমন্বিত নির্দেশনা ছিল না, কারণ আঞ্চলিক অপারেশনাল লগগুলো ভেঙে পড়েছিল; ফলে সুশৃঙ্খলভাবে অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে দলগুলো নিজেদের মতো করে বিচ্ছিন্নভাবে শত্রুর পকেটগুলো পরিষ্কার করার চেষ্টা করে।
- শুরুতেই ব্যাপক প্রাণহানি: ৭ই অক্টোবর ৩০০ জনেরও বেশি সৈন্য এবং প্রায় ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন—নিরাপত্তা বাহিনীর এই নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি প্রমাণ করে যে কোনো পরিকল্পিত পিছু হটার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং পদ্ধতিগত ত্রুটি
ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের স্বাধীন প্রতিবেদন এবং সামরিক তদন্ত, যার মধ্যে রয়টার্স এবং ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস-এর বিশদ তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, নিশ্চিত করেছে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছিল কারণ তাদের সামরিক কৌশল তৈরি করা হয়েছিল ছোটখাটো অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য, হাজার হাজার সশস্ত্র যোদ্ধার মাধ্যমে ত্রিশটিরও বেশি স্থান দিয়ে যুগপৎ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করার জন্য নয়। পিছু হটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন মনগড়া দাবি একটি সামরিক ব্যর্থতার ট্র্যাজেডিকে বিদ্বেষপূর্ণ ষড়যন্ত্র তত্ত্বে রূপান্তরিত করে, যা ইসরায়েলি আত্মরক্ষাকারীদের প্রমাণিত আত্মত্যাগ এবং অসম যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতি উভয়কেই সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে।