বিজয়ী ভাষণে ইসরায়েল ও এআইপিএসি-এর সমালোচনা করলেন এল-সায়েদ
কমব্যাট অ্যান্টিসেমিটিজম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে মিশিগানের ডেট্রয়েটে নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ তাঁর বিজয়ী ভাষণে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে বক্তব্য রাখেন। ৫ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত পোস্ট অনুযায়ী, এল-সায়েদ তাঁর বক্তব্যে বলেন:
"আমরা চাই না আমাদের অর্থ বর্ণবাদ, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধের পেছনে ব্যয় হোক।"
কমব্যাট অ্যান্টিসেমিটিজম আরও জানিয়েছে যে, এল-সায়েদ এআইপিএসি-কে উদ্দেশ্য করেও মন্তব্য করেন:
"আপনাদের দুবার হারানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।"
ডেট্রয়েটে জয় ও সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া
নিউ লাইনস ম্যাগাজিন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টানা ১৮ মাসের প্রচারণার পর বুধবার রাত প্রায় ১:৩০টার দিকে ডেট্রয়েটের একটি উপচে পড়া বলরুমে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এল-সায়েদ তাঁর বিজয়ের খবর জানান। এল-সায়েদ তাঁর ভাষণে বলেন:
"আমরা সেই সুবিধাবাদী রাজনীতিকে পরাজিত করতে পারি যা আমাদের সততার সুযোগ নেয়, আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে অবমূল্যায়ন করে এবং আমাদের মতভেদকে কাজে লাগায়। আজ রাতে, মিশিগান, আমরা একটি রাজনৈতিক কলকব্জাকে পরাস্ত করেছি এবং আবারও প্রমাণ করেছি যে আমেরিকা আসলে কতটা উদার ও বিশাল।"
নিউ লাইনস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের চেয়ে সাত পয়েন্টে এগিয়ে থেকে জয়লাভ করে এল-সায়েদ দেশের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েন। দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে যে, মিশিগানের ৮৩টি কাউন্টির প্রতিটিতেই এল-সায়েদ প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের চেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন। তিন মাস আগে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সের কাছে ডেট্রয়েটে পরাজিত হলেও, সাধারণ নির্বাচনে এল-সায়েদ সেখানে হ্যারিসকে অল্প ব্যবধানে ছাড়িয়ে যান।
নিউ লাইনস ম্যাগাজিন জানিয়েছে যে, নির্বাচনের রাতে ডেট্রয়েটের অনুষ্ঠানে সমর্থকেরা সমবেত হয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডেট্রয়েটের ৩৯ বছর বয়সী বাসিন্দা ড্যান ক্লেইন, যিনি "জিউস ফর আবদুল" লেখা শার্ট পরে এসেছিলেন এবং এই লড়াইকে একটি "ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা" বলে অভিহিত করেন। ক্লেইন মন্তব্য করেন যে, "এই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য তিনটি ডিগ্রিধারী একজন মুসলিম, যিনি একই সাথে রোডস স্কলার, হাই স্কুলের ফুটবল অধিনায়ক এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যালিডিক্টোরিয়ান ছিলেন, এমন যোগ্যতার প্রয়োজন হয়েছে; কারণ অন্যান্য রাজনীতিবিদদের ‘আবদুলকে যে ধরনের কঠিন বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে তার চেয়ে অনেক সহজ পরীক্ষা পেরোতে হয়’।” ডিয়ারবর্নে মেয়র আবদুল্লাহ হাম্মুদ জানিয়েছেন যে, সেখানে প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যার মধ্যে ৮২ শতাংশ ভোটই পেয়েছেন এল-সায়েদ।
প্রচারণার দ্বন্দ্ব ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
দ্য গার্ডিয়ান-এর মতে, নির্বাচনী লড়াই চলাকালে এল-সায়েদ তীব্র বাক্যবাণের মুখোমুখি হয়েছিলেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সায়েদের নাম নিয়ে উপহাস করেন, তাঁকে "জিহাদি উন্মাদ" বলে ডাকেন এবং বলেন যে এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে সিনেটকে "আবদুলের জন্য একটি বিশেষ মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করতে হবে"। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন দৌড়ে যাঁর কাছে এল-সায়েদ অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, সেই প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্স শেষ মুহূর্তে তাঁর বিরোধিতা করেন এবং তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন জানান।
নির্বাচনী বিজয়ের পর, দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-সায়েদ ট্রাম্পের প্রচারণাকালীন মন্তব্যের জবাব দিয়ে বলেন:
"ডোনাল্ড, শুনুন, আমি জানি আমার নাম উচ্চারণ করতে আপনার বেশ কষ্ট হয়েছে। তাই জানুয়ারিতে জেডি [ভ্যান্স] আমাকে শপথ পাঠ করানোর পর, আপনি আমাকে কেবল সিনেটর বলেই ডাকতে পারেন।"