জব্দকৃত গোলাবারুদের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু
দাহর আল-বায়দার চেকপয়েন্টে সামরিক বিস্ফোরকের একটি অবৈধ চালান জব্দের ঘটনায় জড়িত ১৩ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছে লেবাননের সামরিক প্রসিকিউশন। এর মধ্য দিয়ে হিজবুল্লাহর অভ্যন্তরীণ লজিস্টিক্যাল নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। গত ৫ অক্টোবর বেকা উপত্যকার সাথে বৈরুতকে সংযুক্তকারী প্রধান মহাসড়কে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি আটকের পর, সামরিক আদালতের সরকারি কমিশনার বিচারক ক্লদ ঘানেম গত ৩০ অক্টোবর নামোল্লিখিত আটজন এবং ছদ্মনামে শনাক্তকৃত পাঁচজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সরবরাহ ও পরিবহন সেলের মুখোশ উন্মোচন
অভিযোগপত্রে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অননুমোদিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া, রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক পরিবহন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা লঙ্ঘন এবং লেবাননকে বিদেশি শত্রুতামূলক পদক্ষেপের ঝুঁকিতে ফেলার মতো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আটককৃত পরিবহন যানটির ভেতর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া হাইথাম আহমদ আমহাজ ও আলি শওকি আল-কুরদি নামের কেবল দুইজন কুরিয়ার বর্তমানে লেবাননের হেফাজতে রয়েছেন। বাকি ১১ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে তাদের অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
বিচারিক তদন্তে লেবাননের সার্বভৌম ভূখণ্ডের ভেতর দিয়ে যুদ্ধাস্ত্র পরিবহনের জন্য তৈরি একটি বহুমাত্রিক লজিস্টিক পাইপলাইনের বিস্তারিত উঠে এসেছে। প্রসিকিউশনের বিবরণী অনুযায়ী, "সাজেদ" ছদ্মনামে পরিচিত ইব্রাহিম খোদর হাবিব বালবেক অঞ্চলে এই চালান সরবরাহ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে; অন্যদিকে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলীর মশরাফিয়েহ জেলায় চালানটি গ্রহণ করার কথা ছিল "জুলফিকার" নামে পরিচিত বিলাল ফাদল সাবৌরির। মোহাম্মদ সাফি আইয়ুব ও মোহাম্মদ হায়দার জাইতারসহ আরও চার আসামির বিরুদ্ধে পরিবহন যানটির সাথে নিরাপত্তা দিয়ে আসা এবং যোগাযোগ সমন্বয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আটক হওয়া গাড়িটির মালিক হিসেবে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাজিমেহকে শনাক্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও হিজবুল্লাহর দাবি
লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক চালানে প্রায় ৮০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উপাদান ছিল, যার মধ্যে প্রায় ২৫০ কিলোগ্রাম টিএনটি এবং ২৫০ কিলোগ্রাম সামরিক মানের সি-৪ প্লাস্টিক বিস্ফোরক অন্তর্ভুক্ত। এই জব্দের ঘটনার পর, গত ১৫ অক্টোবর হিজবুল্লাহ প্রকাশ্যে ওই যুদ্ধাস্ত্রের মালিকানা স্বীকার করে। গোষ্ঠীটির প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন অভিযানের উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরকগুলো পাঠানো হচ্ছিল। হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হুসেইন হাজ্জ হাসান দাবি করেন, আসামিরা কেবল তাদের "জাতীয় দায়িত্ব" পালন করছিলেন। হিজবুল্লাহ নেতৃত্ব আটককৃত দুই সদস্যের দ্রুত মুক্তি এবং বাজেয়াপ্ত সামগ্রী অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানালেও লেবাননের কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং আইনের শাসন (Rule of Law) নিয়ে অভ্যন্তরীণ তীব্র বিতর্কের মধ্যেই এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো। মামলাটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অপরাধের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা লেবাননের জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে লেবাননের মন্ত্রিসভার কর্মকর্তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সামরিক প্রসিকিউশনের এই কঠোর পদক্ষেপটি রাষ্ট্রীয় বিচারিক কর্তৃপক্ষ এবং লেবাননের সার্বভৌম নজরদারির বাইরে পরিচালিত সশস্ত্র অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা বিরোধকেই সামনে নিয়ে এসেছে।