রিয়াদ অঞ্চলের আকাশে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করল জোট বাহিনী
ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঘোষণা করেছে যে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী রিয়াদ অঞ্চলের দিকে ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি হুথি আন্দোলন নিক্ষেপ করেছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কোথায় প্রতিহত করা হয়েছে, বৃহত্তর রাজধানী অঞ্চলের ভেতরে সেটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল কিংবা কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
বিপরীত এক দাবিতে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে, তাদের গোষ্ঠী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ছয়টি অভিযান পরিচালনা করেছে। সারির দাবি অনুযায়ী, এই হামলাগুলোতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খুরাইস ও দাওয়াদমির তেল স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি নাজরানের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং ইয়েমেনের আল-জাওফ ও মারিব প্রদেশের বিভিন্ন অবস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
আন্তঃসীমান্ত হুমকির বিস্তার এবং বিমান প্রতিরক্ষা তৎপরতা
রিয়াদের আকাশে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘটনাটি সৌদি আরব জুড়ে একাধিক আকাশ প্রতিরক্ষা অভিযানের খবরের পরপরই ঘটল। জোট কর্তৃপক্ষ মক্কা প্রশাসনিক অঞ্চলে একটি অজ্ঞাত ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং তেল সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে আরেকটি ড্রোন প্রতিহত করার তথ্য দিয়েছে। তবে হুথি কর্মকর্তারা মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, তাদের আন্তঃসীমান্ত অভিযানগুলো কেবল সামরিক স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ।
ইয়েমেনের তাইজ, লাহেজ, মারিব এবং আল-জাওফসহ একাধিক প্রদেশে তীব্র লড়াইয়ের পটভূমিতে এই আন্তঃসীমান্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রচেষ্টা চালানো হয়। ইয়েমেনি সরকারি সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধবিমান, সশস্ত্র ড্রোন এবং কামানের সহায়তায় হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে ৮৭৫টি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে; যার ফলে কয়েক বছরের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে।