মিথ্যা দাবির উৎস
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল পোস্ট এবং চরমপন্থী আলোচনা ফোরামগুলোতে একটি দাবি ছড়ানো হয়েছে যে, ১৬৫ জন রব্বির একটি গোপন দল বা "কনসোর্টিয়াম" পর্নহাবের মূল প্রতিষ্ঠান আয়লোর মালিকানা ও পরিচালনা করছে। এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। করপোরেট পোর্টফোলিওর তথ্যকে বিকৃত করে এবং একজন করপোরেট নির্বাহীর ব্যক্তিগত পরিচয়কে পুঁজি করে চিরচেনা ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণার মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে।
১৬৫ সংখ্যাটি কোনো ব্যক্তি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের নির্দেশ করে না। বরং এটি আয়লোর পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠান মাইন্ডগিকের অধীনে ঐতিহাসিকভাবে পরিচালিত প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনমূলক ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল ডোমেইনের আনুমানিক সংখ্যা। অপতথ্য ছড়ানো নেটওয়ার্কগুলো এই প্রযুক্তিগত ও পরিচালন সংক্রান্ত সংখ্যাটিকে প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণকারী প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মের একজন অংশীদারের ধর্মীয় পরিচয়ের সাথে যুক্ত করে ১৬৫ জন রব্বির একটি কাল্পনিক কনসোর্টিয়াম উদ্ভাবন করে।
আয়লো এবং পর্নহাবের প্রকৃত মালিকানা
আয়লো একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যা অটোয়া এবং মন্ট্রিলভিত্তিক কানাডিয়ান প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম এথিক্যাল ক্যাপিটাল পার্টনার্স (ইসিপি) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ইসিপি মাইন্ডগিকের অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে। প্রতিষ্ঠানটির প্ল্যাটফর্মগুলোতে অসম্মতিমূলক কনটেন্ট এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের শোষণের উপাদান সংক্রান্ত বিষয়ে মাইন্ডগিক তখন তীব্র জনরোষ, আইনি জটিলতা এবং পেমেন্ট প্রসেসরদের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি ছিল। অধিগ্রহণের পর, আইনি বাধ্যবাধকতা, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে একটি পরিচালনগত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ইসিপি ২০২৩ সালের আগস্টে মাইন্ডগিকের নাম পরিবর্তন করে আয়লো রাখে।
আইন, করপোরেট সুশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতো বিভিন্ন খাতের পেশাদারদের সমন্বয়ে গঠিত কানাডিয়ান উদ্যোক্তা দলের মাধ্যমে এথিক্যাল ক্যাপিটাল পার্টনার্স প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসিপির প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে রয়েছেন:
- রোকো মেলিয়ামব্রো: চেয়ারপারসন এবং অভিজ্ঞ প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারী।
- ফাদি মনসুর: ম্যানেজিং পার্টনার এবং করপোরেট সিকিউরিটিজ আইনজীবী।
- সারাহ বেইন: পার্টনার এবং পাবলিক অ্যাফেয়ার্স স্ট্র্যাটেজিস্ট।
- ডেরেক অগডেন: পার্টনার এবং রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট, যিনি পূর্বে ন্যাশনাল চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
- সলোমন ফ্রিডম্যান: পার্টনার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট অব কমপ্লায়েন্স, যিনি অটোয়ার একজন ফৌজদারি প্রতিরক্ষা আইনজীবী।
কোনো রব্বিনিক্যাল সংস্থা, ধর্মীয় পরিষদ বা ইহুদি সম্প্রদায়ের আয়লো বা ইসিপিতে কোনো মালিকানা, পরিচালন কর্তৃত্ব বা প্রশাসনিক অধিকার নেই। সংস্থাটি কানাডিয়ান করপোরেট আইনের অধীনে ব্যক্তিগত করপোরেট চুক্তির মাধ্যমে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়।
সলোমন ফ্রিডম্যানের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি
আয়লোর সাথে রব্বিনিক্যাল পরিচয়ের একমাত্র যোগসূত্র হলেন সলোমন ফ্রিডম্যান। জীবনের শুরুর দিকে ফ্রিডম্যান উচ্চতর তালমুদিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং অর্থোডক্স রব্বি হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন, অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন, কানাডার সুপ্রিম কোর্টে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন এবং ফৌজদারি প্রতিরক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সম্মতি (রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স) বিষয়ে সুনামের সাথে আইনচর্চা প্রতিষ্ঠা করেন।
ইসিপি যখন মাইন্ডগিক অধিগ্রহণ করে, তখন ফ্রিডম্যান ভাইস প্রেসিডেন্ট অব কমপ্লায়েন্স হিসেবে দায়িত্ব নেন; যার দায়িত্ব ছিল নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত Kibbutzim / Moshavim / Israeli communities, বয়স যাচাইকরণ প্রোটোকল এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সমন্বয় তদারকি করা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ফ্রিডম্যানের এই ব্যতিক্রমী পটভূমি—তাঁর রব্বিনিক্যাল যোগ্যতা এবং একটি শীর্ষস্থানীয় অ্যাডাল্ট স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের আইনি তদারকির বৈপরীত্য—তুলে ধরলেও তিনি একটি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের একজন স্বতন্ত্র আইনজীবী মাত্র; কোনো রব্বিনিক্যাল কনসোর্টিয়াম বা ইহুদি ধর্মের প্রতিনিধি নন।
আখ্যানটির ইহুদিবিদ্বেষী অপব্যবহার
"১৬৫ জন রব্বির কনসোর্টিয়াম"-সংক্রান্ত এই মিথ্যা দাবিটি শতাব্দীপ্রাচীন ইহুদিবিদ্বেষী অপপ্রচারকেই ব্যবহার করে, যেখানে চিত্রিত করা হয় যে ইহুদিরা দুর্নীতি, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন ব্যবসার মাধ্যমে সমাজের নৈতিকতা নষ্ট করার গোপন চক্রান্তে লিপ্ত। ঐতিহ্যগত ইহুদি ধর্মীয় আইনে (হালাখা) পর্নোগ্রাফি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যা শালীনতা, গোপনীয়তা এবং বৈবাহিক পবিত্রতার মূল নীতিগুলোকে লঙ্ঘন করে। প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন ব্যবসাকে সমর্থন করা তো দূরের কথা, অর্থোডক্স, কনজারভেটিভ এবং রিফর্ম জুডাইজমসহ সব মূলধারার রব্বিনিক্যাল কর্তৃপক্ষ একযোগে পর্নোগ্রাফির তীব্র নিন্দা জানায়।
প্রায় ১৬৫টি ওয়েব প্রোপার্টির একটি ব্যবসায়িক পোর্টফোলিও সংখ্যাকে ১৬৫ জন ধর্মীয় নেতার কাল্পনিক চক্র হিসেবে উপস্থাপন করে উগ্রপন্থীরা মূলত করপোরেট সমালোচনার আড়ালে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এই মানহানিকর বয়ান তৈরি করেছে।