ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৫ সালের ধর্ম-সংক্রান্ত বিদ্বেষমূলক ঘটনার হিসাব
২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর প্রকাশিত এক পোস্টে, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট @basicoptimism দাবি করেছে যে, পাশ্চাত্য বিশ্ব এযাবৎকালের সবচেয়ে সহনশীল সভ্যতা গড়ে তুলেছে। পোস্টটিতে বলা হয়, ইউরোপ ও আমেরিকায় মুসলিমদের মসজিদ নির্মাণ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জয়লাভ এবং যে সরকার তাদের প্রার্থনার অধিকার রক্ষা করে তার প্রকাশ্য সমালোচনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। অ্যাকাউন্টটি সৌদি আরবের পরিস্থিতির সঙ্গে এই স্বাধীনতার তুলনা করে উল্লেখ করে যে, সৌদি আরবে খ্রিস্টানরা যেটুকু অধিকার বা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন, তার চেয়ে এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা বহুলাংশে বিস্তৃত।
ধর্মীয় বিদ্বেষ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট সরকারি তথ্যের দিকে আলোকপাত করে পোস্টে জানানো হয়, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালে ১,৩২০টি ইহুদি-বিদ্বেষী, ৮৪৩টি খ্রিস্টান-বিরোধী এবং ৩২৬টি মুসলিম-বিরোধী ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার ১%-এরও কম হওয়া সত্ত্বেও, দেশটির ধর্মভিত্তিক মোট হামলার অর্ধেকেরও বেশিতে ইহুদিদের নিশানা করা হয়েছিল। লেখক জোর দিয়ে বলেন, এই হামলার প্রতিটি ঘটনাই নিন্দনীয়—যার মধ্যে নিশ্চিতভাবেই মুসলিম-বিরোধী ঘটনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত, যা গত বছর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
মুসলিম ব্রাদারহুড সম্পর্কিত ফরাসি সরকারের প্রতিবেদন
এই প্রবণতাগুলো পর্যালোচনা করে লেখক মন্তব্য করেন যে, পাশ্চাত্যের যদি কোনো সমালোচনা প্রাপ্য হয়, তবে তা হলো—তারা অসহনশীলদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত সহনশীল থেকেছে এবং যে স্বাধীনতা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব এনে দিয়েছিল তা রক্ষায় অত্যন্ত ধীরগতি দেখিয়েছে। পোস্ট অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত সহনশীলতার সুযোগ নিয়েই পশ্চিমা সমাজের বিরুদ্ধে "ইসলামোফোবিয়া" বা ইসলামভীতির অভিযোগটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
পোস্টে ফরাসি সরকারের একটি প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরা হয়, যেখানে বর্ণনা করা হয়েছে কীভাবে মুসলিম ব্রাদারহুড ধর্মনিরপেক্ষ আইনগুলোকে রাষ্ট্রীয় বর্ণবাদ হিসেবে চিত্রিত করতে ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগ ব্যবহার করে। @basicoptimism-এর উদ্ধৃত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম ব্রাদারহুড এই কৌশলটি এ কারণে প্রয়োগ করে যাতে যে কেউ এই মতাদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাকে ধর্মান্ধ হিসেবে কোণঠাসা করা যায়। লেখক এই পরিস্থিতিকে এক অদ্ভুত ধরনের ইসলামোফোবিয়া হিসেবে অভিহিত করেন—যেখানে ব্যক্তিদের মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় এবং মেয়র কিংবা সিনেটরের মতো পদে নির্বাচিত করা হয়। পরিশেষে লেখক উল্লেখ করেন, পাশ্চাত্যে শুভ বুদ্ধির পুনরুজ্জীবন ঘটাতেই Basic Optimism তৈরি করা হয়েছিল।