লেবানন থেকে পিএলওর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কয়েক বছরের হামলা এবং অস্থিতিশীল সীমান্ত যুদ্ধবিরতির পর ১৯৮২ সালের ৬ জুন ইসরায়েল অপারেশন পিস ফর গ্যালিলি শুরু করে। ৩ জুন লন্ডনে রাষ্ট্রদূত শ্লোমো আর্গভকে গুলি করার ঘটনাটি ছিল তাৎক্ষণিক উসকানি, যদিও কাজটি করেছিল আবু নিদালের গোষ্ঠী, পিএলও নয়। ইসরায়েল সরকার প্রাথমিক সামরিক লক্ষ্য হিসেবে উত্তর ইসরায়েল থেকে পিএলওর বাহিনী ও কামান দূরে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল; অভিযানটি শিগগিরই সেই সীমিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে যায়।
সীমান্ত কীভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হলো
লেবাননের ১৯৬৯ সালের কায়রো চুক্তিতে নির্দিষ্ট এলাকায় পিএলওর কর্মকাণ্ড স্বীকৃত হয়েছিল, তবে ইসরায়েলি সীমান্ত পেরিয়ে গুলি চালানো নিষিদ্ধ ছিল। গৃহযুদ্ধের সময় লেবানন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে পিএলও সীমান্ত বরাবর সশস্ত্র অবস্থান গড়ে তোলে এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে হামলা বাড়ে। এই ইতিহাস আক্রমণের নিরাপত্তাগত প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে এতে লেবাননের বহু রাজনৈতিক পক্ষ একক শক্তিতে পরিণত হয়নি। লেবাননের ইতিহাস নিয়ে জিউইশ ভার্চুয়াল লাইব্রেরির বিবরণে চুক্তি, পিএলওর সশস্ত্র তৎপরতার বৃদ্ধি এবং বিভক্ত লেবাননের প্রতিক্রিয়া বর্ণিত হয়েছে।
১৯৮১ সালের জুলাইয়ে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার পর মার্কিন দূত ফিলিপ হাবিব ইসরায়েল ও পিএলওর মধ্যে কার্যত একটি যুদ্ধবিরতি করান। এতে সীমান্তপারের সংঘর্ষ কমে, কিন্তু লেবাননে পিএলও বাহিনীর উপস্থিতি বা সিরিয়াকে ঘিরে উত্তেজনার সমাধান হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রিগ্যান প্রশাসন ও লেবাননবিষয়ক বিবরণে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি অন্যত্র ইসরায়েলি ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে চলতে থাকা হামলার কথাও উল্লেখ আছে।
আর্গভকে গুলি এবং আক্রমণ
১৯৮২ সালের ৩ জুন লন্ডনের একটি হোটেলের বাইরে আবু নিদাল অর্গানাইজেশনের বন্দুকধারীরা আর্গভকে গুলি করে। আবু নিদালের গোষ্ঠী ইয়াসির আরাফাতের পিএলওর বিরোধী ছিল। ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদন করে; ৬ জুন ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে প্রবেশ করে। আর্গভের ওপর হামলা পিএলওর দায় প্রমাণ করেনি, তবে লেবাননে পিএলওর সশস্ত্র উপস্থিতি ও সেখান থেকে হামলা নিয়ে ইসরায়েলের ঘোষিত উদ্বেগের সময়েই ঘটনাটি ঘটে। জাতিসংঘ মহাসচিব হাভিয়ের পেরেস দে কুয়েয়ারের ৬ জুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের ৫০৮ নম্বর প্রস্তাবের পর পিএলও সীমান্তপারের অভিযান বন্ধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিল; একই সঙ্গে সেদিন সকালে ইসরায়েলের বিমান ও স্থল অভিযানও নথিবদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি তারিখসহ ঘটনাক্রম তুলে ধরে।
৪০ কিলোমিটারের লক্ষ্য এবং পরবর্তী ঘটনা
ইসরায়েল প্রথমে অভিযানটিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীর একটি নিরাপত্তা এলাকা তৈরির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরে, যার উদ্দেশ্য ছিল পিএলওর বাহিনী ও কামানকে উত্তর ইসরায়েলের জনবসতির আওতার বাইরে সরিয়ে দেওয়া। অভিযান সেই সীমায় থামেনি: ইসরায়েলি বাহিনী বেকা উপত্যকায় সিরীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়ে এবং পশ্চিম বৈরুত পর্যন্ত অগ্রসর হয়। তাই ঘোষিত প্রাথমিক লক্ষ্যটি শুরুর যুক্তি ব্যাখ্যা করে, পুরো যুদ্ধ বা পরবর্তী সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়।
এরপর পড়ুন বফোর, সুলতান ইয়াকুব ও বেকার প্রধান যুদ্ধগুলো, বৈরুত অবরোধ ও পিএলওর সরিয়ে নেওয়া, ফালাঙ্গিস্ট ও বশির জেমায়েলের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক, সাবরা ও শাতিলা হত্যাযজ্ঞ এবং কাহান কমিশন, দক্ষিণ লেবানন আর্মি ও নিরাপত্তা এলাকা, এবং ১৯৮৩ সালের ব্যর্থ ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি।