রুশভাষী অভিবাসীরা শিল্পী, লেখক, দর্শক ও গণমাধ্যমের পাঠক-দর্শকদের ইসরায়েলের সাংস্কৃতিক জীবনে নিয়ে আসেন। তারা এমন প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন, যা রুশ ভাষার কাজকে হিব্রুভাষী দর্শকের সঙ্গে যুক্ত করে। অভিবাসী পরিবারের তরুণ ইসরায়েলিদের রুশ ভাষা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্ক নানা রকম; অভিবাসনের সময় বয়স, পারিবারিক চর্চা ও ব্যক্তিগত পছন্দ—সবই গুরুত্বপূর্ণ। সিবিএসের জনমিতিক সারণি অভিবাসী জনসংখ্যার আকার ও বণ্টন নথিবদ্ধ করে, আর সোভিয়েত ইহুদি আন্দোলনের ইতিহাস এই ঢেউয়ের আগে গড়ে ওঠা আন্দোলনের বিবরণ দেয়।
গেশার রুশ ও হিব্রু থিয়েটারকে যুক্ত করে
১৯৯১ সালে পরিচালক ইয়েভগেনি আরিয়ে এবং ইসরায়েলে অভিবাসন করা একদল রুশ অভিনেতা গেশার থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি হিব্রু নাটকের পাঠ সিরিলিক বর্ণে লিখে মহড়া শুরু করে এবং হিব্রু ও রুশ—দুই ভাষাতেই অভিনয় করে। গেশার থিয়েটারের ইতিহাস অনুযায়ী, তাদের প্রথম প্রযোজনা ছিল টম স্টপার্ডের রোজেনক্রান্টজ অ্যান্ড গিল্ডেনস্টার্ন আর ডেড, যার উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয় ১৯৯১ সালের এপ্রিলে।
ইসরায়েলের সাংস্কৃতিক জীবনে অবদানের জন্য গেশার ১৯৯৫ সালে নেসেট স্পিকারের পুরস্কার এবং ১৯৯৬ সালে ইয়িগাল অ্যালন পুরস্কার পায়। এই পুরস্কারগুলো একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অর্জন চিহ্নিত করে: সাম্প্রতিক অভিবাসীদের প্রতিষ্ঠিত একটি থিয়েটার ইসরায়েলের জাতীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অংশ হয়ে ওঠে। দলের দ্বিভাষিক কাজ ও ইতিহাস সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি কার্যকর উদাহরণ, তবে তা থেকে এই সিদ্ধান্ত আসে না যে প্রত্যেক রুশভাষী ইসরায়েলির পরিচয় একই।
প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় বদলায়
শিশু অবস্থায় অভিবাসন করা অনেকে স্কুলে হিব্রু শেখেন, পাশাপাশি পরিবার ও সম্প্রদায়ের জীবনে রুশ ভাষা ধরে রাখেন। এই প্রজন্মের সবার ভাষাগত পরিচয় এক নয়: কেউ নিয়মিত রুশ ভাষা ব্যবহার করেন, কেউ প্রধানত হিব্রু, আবার অনেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী দুই ভাষার মধ্যে চলাচল করেন। রুশ ভাষার গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যোগাযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে; অন্যদিকে হিব্রুভাষী স্কুল, কর্মস্থল ও জনজীবনে অংশগ্রহণ ইসরায়েলি পরিচয় গড়ে তোলে।
রুশভাষী ইসরায়েলিরা কোনো একরকম সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী নন। তাদের পটভূমি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নানা প্রজাতন্ত্রজুড়ে বিস্তৃত, আর ধর্ম, ভাষার ব্যবহার ও অভিবাসনের পরিস্থিতিতে পরিবারভেদে পার্থক্য আছে। অভিবাসনের বৃহত্তর কালানুক্রম রয়েছে রিফিউজেনিক থেকে ১৯৯০-এর দশকের আলিয়াহ নিবন্ধে; সম্প্রদায়টির নির্বাচনী ভূমিকা আলোচিত হয়েছে রুশ অভিবাসী ও ইসরায়েলের রাজনীতি নিবন্ধে।
সামরিক সেবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
অভিবাসী পরিবারের অনেক তরুণ নাগরিক ইসরায়েলের নাগরিক জীবনের অংশ হিসেবে সামরিক সেবার মুখোমুখি হন, কিন্তু শুধু ভাষাগত পটভূমি দিয়ে কারও ভূমিকা, প্রেরণা বা সেবার বিবরণ অনুমান করা যায় না। রুশভাষী নিয়োগপ্রাপ্তরা তুলনামূলকভাবে বেশি প্রযুক্তিগত ভূমিকা বা যুদ্ধ ইউনিটে যান—এমন দাবির পক্ষে তুলনামূলক প্রমাণ দরকার; এগুলোকে সম্প্রদায়টির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরা উচিত নয়।
নথিভুক্ত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রদায়টির জনপরিসরে উপস্থিতির আরও স্পষ্ট বিবরণ দেয়। গেশারের প্রতিষ্ঠা, দ্বিভাষিক প্রযোজনা ও জাতীয় পুরস্কার দেখায়, অভিবাসী শিল্পীরা কীভাবে ইসরায়েলে স্থায়ী সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরি করেন। দৈনন্দিন পরিচয় আরও বিস্তৃত ও ব্যক্তিগত: নতুন প্রজন্ম রুশ ভাষা ও পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখেও ইসরায়েলি সমাজের সঙ্গে নিজেদের পূর্ণভাবে একাত্ম ভাবতে পারে।