১৯৯০-এর দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আসা অভিবাসীরা ইসরায়েলের প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও অন্যান্য দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়ান। তাদের আগমনের সময় ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাতও বাড়ছিল, তবে শুধু অভিবাসনের কারণেই এই খাত গড়ে ওঠেনি; প্রশিক্ষিত অনেক পেশাজীবী শুরুতে নিজেদের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরে কাজ করেন।
অল্প সময়ে বিপুল দক্ষ কর্মী আসেন
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ১৯৯০-এর দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আনুমানিক ৯০০,০০০ অভিবাসী ইসরায়েলে আসেন। একই পরিসংখ্যানের সারাংশে বলা হয়েছে, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আসা কর্মরত অভিবাসীদের ২৫ শতাংশ বৈজ্ঞানিক, একাডেমিক, পেশাগত বা প্রযুক্তিগত কাজে ছিলেন; তুলনামূলক গোষ্ঠীর কর্মরত ইহুদিদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ। ইসরায়েলের পরিবর্তনশীল অর্থনীতিতে প্রবেশ করা কর্মীবাহিনীর একটি প্রাথমিক চিত্র এটি, যা বর্ণিত হয়েছে ইসরায়েলে উচ্চদক্ষ অভিবাসন বিষয়ে ওইসিডির অধ্যায়ে। এই শ্রেণিগুলো আগমনের পরের কাজ বোঝায়; এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক অভিবাসী প্রযুক্তি খাতে কাজ পেয়েছিলেন। দেখুন অভিবাসনের ঢেউ নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিচিতি।
একাডেমিক গবেষণায় কাজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নথিবদ্ধ হয়েছে। রুশ প্রকৌশলীদের নিয়ে এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁদের কেবল একাংশ প্রকৌশলীর পদ পেয়েছিলেন এবং ফলাফল বয়স, লিঙ্গ ও বিশেষায়নের ভিত্তিতে ভিন্ন ছিল। ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটিং ও উচ্চপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রের প্রকৌশলীদের তুলনায় ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়ার কথা জানান। এতে বোঝা যায়, অভিবাসীদের আনা সনদের সংখ্যাকে উপযুক্ত চাকরিতে তাৎক্ষণিক নিয়োগের সমান ধরা যায় না।
প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি শ্রমবাজারের ফলাফল গড়ে দেয়
ইসরায়েলের উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে অভিবাসীদের নিয়ে গবেষণায় সরকারি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ ও পরবর্তী সময়ে পেশাদার উচ্চপ্রযুক্তি পদে কাজের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সারিত কোহেন-গোল্ডনারের অভিবাসীদের প্রশিক্ষণ ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানবিষয়ক গবেষণায় এ কথা জানানো হয়েছে। এই ফলাফল একটি বাস্তব প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে: স্থানীয় প্রশিক্ষণ কিছু অভিবাসীকে তাদের আগের দক্ষতা ইসরায়েলি নিয়োগকর্তাদের উপযোগী কাজে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। এতে প্রমাণ হয় না যে সব অংশগ্রহণকারী উচ্চপ্রযুক্তি খাতে গিয়েছিলেন, কিংবা একটি কর্মসূচিই এই খাতের সামগ্রিক সম্প্রসারণ ঘটিয়েছিল।
অভিবাসন ও অর্থনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলাদা এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে উৎপাদন প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক পরিবর্তন দক্ষ শ্রমিকের সরবরাহ বৃদ্ধিকে ইসরায়েলের কাজে লাগাতে সাহায্য করেছিল; দক্ষ অভিবাসন নিয়ে ওইসিডির পর্যালোচনায় এর সারাংশ রয়েছে। গবেষণার সিদ্ধান্ত ছিল, উৎপাদিত পণ্যের মিশ্রণে পরিবর্তন একইভাবে এই সমন্বয় ব্যাখ্যা করে না। অভিবাসীরাই এককভাবে “স্টার্ট-আপ নেশন” গড়েছেন—এমন বক্তব্যের চেয়ে এই ফলাফলগুলো আরও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়।
বৃহত্তর পরিমণ্ডলের মধ্যে অভিবাসীদের অবদান
ইসরায়েলের প্রযুক্তি শিল্প বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি, সরকারি নীতি, বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক চাহিদার ওপরও নির্ভরশীল ছিল। দক্ষ অভিবাসীরা আগে থেকে থাকা এই পরিমণ্ডলে যোগ দিয়ে নিজেদের দক্ষতা দেন এবং ভিন্ন ভিন্ন গতিতে নতুন কাজে প্রবেশ করেন। রপ্তানি, কোম্পানি বা উদ্ভাবনের কত অংশ তাঁরা তৈরি করেছেন—এমন অসমর্থিত দাবির বদলে শ্রমবাজারের গবেষণার মাধ্যমে তাঁদের পরিমাপযোগ্য অবদান বোঝাই উত্তম।
অভিবাসন ও অন্তর্ভুক্তির বিস্তৃত কালানুক্রম রয়েছে রিফিউজেনিক থেকে ১৯৯০-এর দশকের আলিয়াহ নিবন্ধে। অভিবাসীদের গড়া সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে দেখুন রুশভাষী ইসরায়েলিরা: সংস্কৃতি, পরিচয় ও সামরিক সেবা।