১৯৫২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত লুক্সেমবুর্গ চুক্তিতে পশ্চিম জার্মানির কাছ থেকে ইসরায়েলের অর্থপ্রাপ্তি এবং ইহুদি জীবিতদের ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার কথা নির্ধারিত হয়। জার্মান মন্ত্রিসভার নথি অনুযায়ী, চুক্তিতে ইসরায়েলের অংশ ছিল তিন বিলিয়ন ডয়েচে মার্ক, যা সময়ের সঙ্গে প্রধানত পণ্য আকারে দেওয়ার কথা ছিল; দেখুন জার্মান মন্ত্রিসভার কার্যবিবরণী। কনফারেন্স অন জিউইশ ম্যাটেরিয়াল ক্লেইমস এগেইনস্ট জার্মানির মাধ্যমে জীবিতদের পক্ষে করা দাবির জন্য আলাদা একটি চুক্তি হয়।
চুক্তিগুলোতে কী ছিল
ক্লেইমস কনফারেন্স অনুসারে, ইসরায়েল ও ক্লেইমস কনফারেন্স জার্মানির ফেডারেল রিপাবলিকের সঙ্গে আলোচনা করে। চুক্তিগুলো দুটি পৃথক বিষয় স্বীকার করে: ইহুদি জীবিতদের একীভূত ও পুনর্বাসনে ইসরায়েলের ব্যয় এবং নাৎসি নিপীড়নের ব্যক্তিগত শিকারদের পক্ষে করা ক্ষতিপূরণ দাবি। ইসরায়েল তিন বিলিয়ন ডয়েচে মার্ক পাওয়ার অঙ্গীকার পায়; ক্লেইমস কনফারেন্স চুক্তি জীবিতদের দাবির জন্য পৃথক কাঠামো দেয়।
১৯৫২ সালের জুনের জার্মান মন্ত্রিসভার নথিতে ইসরায়েলের তিন বিলিয়ন ডয়েচে মার্কের প্রস্তাবিত অর্থপ্রদানের সময়সূচি আছে: বারো বছর ধরে বার্ষিক হস্তান্তর, আর হস্তান্তরের জটিলতা কমাতে পণ্য সরবরাহ। চূড়ান্ত চুক্তিগুলো সেপ্টেম্বরে লুক্সেমবুর্গে সম্পন্ন হয়। পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রকে দেওয়া অর্থ প্রত্যেক জীবিতের হাতে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ-চেক হিসেবে যায়নি।
ইসরায়েলে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে আলোচনা ইসরায়েলে তীব্র বিরোধিতার জন্ম দেয়। ছয় মিলিয়ন ইহুদিকে হত্যার এত অল্প সময় পর অনেক ইসরায়েলির কাছে যেকোনো চুক্তিই অগ্রহণযোগ্য ছিল; বিক্ষোভ ও নেসেটে তীব্র বিতর্কের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তটি আসে। সরকার যুক্তি দেয়, জীবিতদের পুনর্বাসন এবং নাৎসি শাসনের কেড়ে নেওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের বাস্তব ব্যয় মেটাতে এই তহবিল কাজে লাগবে; জার্মান মন্ত্রিসভার কার্যবিবরণীতে অর্থপ্রদানের শর্তাবলি নথিভুক্ত আছে। গভীর নৈতিক মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটি গৃহীত হয়।
অর্থনৈতিক অবদান ও ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ
ব্যাপক অভিবাসন ও কৃচ্ছ্রসাধনের সময় চুক্তির অধীনে পণ্য সরবরাহ আমদানিনির্ভর ইসরায়েলি অর্থনীতিকে সহায়তা করে। তা অবকাঠামো ও উৎপাদনক্ষমতায় অবদান রাখে; জীবিতদের ক্ষতিপূরণ আসে পৃথক ব্যবস্থার মাধ্যমে। অর্থপ্রদানকে ইসরায়েলের অর্থনীতির একমাত্র ভিত্তি বলার চেয়ে উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলা বেশি যথাযথ।
দেখুন ইসরায়েল কীভাবে নতুন অভিবাসীদের আবাসন দিয়েছিল এবং জীবিতদের অবদানের বিস্তৃত ইতিহাস।