কিদ্রোন উপত্যকার ওপর জেরুজালেমের পূর্ব শৈলশিরায়, মন্দির পর্বতের দিকে মুখ করে জলপাই পর্বতের সমাধিক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। এলাকার প্রত্নতাত্ত্বিক সমাধিগুহাগুলো বাইবেলীয় যুগের, আর প্রথম ও দ্বিতীয় মন্দির যুগের শেষভাগে শৈলশিরায় ইহুদি সমাধি বিস্তৃত হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ব্যবহার বদলেছে; তাই সমাধিক্ষেত্রটির ইতিহাস দীর্ঘ হলেও তিন সহস্রাব্দ ধরে বিরতিহীন সমাধির ইতিহাস নয়।
প্রাচীন সমাধিগুহা থেকে মধ্যযুগীয় বিরতি
জলপাই পর্বতের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে পুরোনো সমাধিগুহাগুলো সিলওয়ানের কাছে অবস্থিত এবং বাইবেলীয় যুগের। প্রথম মন্দির যুগের শেষভাগ থেকে, মোটামুটি খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম থেকে ষষ্ঠ শতকে, পূর্বের শৈলশিরায় সমাধির সংখ্যা বাড়ে এবং দ্বিতীয় মন্দির যুগেও তা চলতে থাকে। ৭০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে বাগান ও জলপাই বাগিচার মধ্যে শৈলশিরাটিতে বহু সমাধিগুহা ছিল। জিউইশ ভার্চুয়াল লাইব্রেরির ঐতিহাসিক বিবরণে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে বহু প্রাচীন গুহা লুট হয়েছিল এবং মধ্যবর্তী যুগগুলোতে অন্য স্থানেও ইহুদিদের সমাধি হয়েছে।
ঐতিহাসিক সূত্রে আরব, ক্রুসেডার ও মামলুক আমলে দক্ষিণ ঢালগুলোতে এবং মন্দির পর্বতের পূর্বে ইহুদি সমাধির কথা রয়েছে। ষোড়শ শতকে উসমানীয় শাসন শুরু হলে ইহুদিরা জলপাই পর্বতের কিছু অংশে আবার সমাধি দিতে ফেরেন। এই পরিবর্তনগুলো গুরুত্বপূর্ণ: জেরুজালেমের সঙ্গে শতাব্দীজুড়ে সম্পর্কই সমাধিক্ষেত্রটির তাৎপর্যের ভিত্তি, একই স্থানে অবিরত ব্যবহারের দাবি নয়।
বিভাগগুলোতে জেরুজালেমের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পরিচয়
সমাধিক্ষেত্রটি একটিমাত্র অভিন্ন সমাধিস্থল নয়। এখানে বিভিন্ন সমাধি সমিতি ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এলাকা রয়েছে। যেমন, হাসিদিক সমাধিক্ষেত্রে ১৮৫৬ সালে সমাধি দেওয়া শুরু হয় এবং ১৯৪৮ সালের যুদ্ধ পর্যন্ত তা চলেছিল; সেখানে জেরুজালেমের হাসিদিক দরবারের সদস্য ও বংশানুক্রমিক রাব্বিদের কবর আছে। সাধারণ সমাধি সমিতির বিভাগে ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ জনকে সমাধিস্থ করা হয়, যাঁদের অধিকাংশই জেরুজালেমের বাসিন্দা। আটটি ছোট এলাকা সাধারণত প্রাচ্যদেশীয় সম্প্রদায়গুলোর। বিভাগগুলোর বিবরণ দেখায়, সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে সমাধিক্ষেত্রটির বিন্যাস গড়েছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্র নিরীক্ষকের পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা অনুসারে, বর্তমানে প্রায় ৩০০ দুনাম এলাকাজুড়ে সমাধিক্ষেত্রটিতে ৬০,০০০-এর বেশি কবর আছে বলে অনুমান করা হয়। এই অনুমান ও আয়তন বর্তমান স্থানের বিবরণ; পুরোনো সূত্রে সীমানা ও মোট সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।
১৯৪৮ সালে সমাধি বন্ধ, ১৯৬৭ সালে পুনরায় শুরু
১৯৪৮ সালে পর্বতে ইহুদি সমাধি বন্ধ হয় এবং ১৯ বছর পর, ছয় দিনের যুদ্ধের পরে, আবার শুরু হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত জর্ডানীয় শাসনামলে সমাধিক্ষেত্রটির ব্যাপক ক্ষতি হয়; রাষ্ট্র নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশ হাজার কবর অপবিত্র করা হয়েছিল। ১৯৬৮ সাল থেকে ইসরায়েলি সরকার পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বহু বছর বিলম্বিত হয়েছিল। রাষ্ট্র নিরীক্ষকের পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যালোচনা ১৯৪৮ সালে সমাধি বন্ধ হওয়া এবং ১৯৬৭ সালে পুনরায় শুরুর বিষয়টিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করে। সমাধিক্ষেত্রটির আধুনিক ইতিহাস ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি ও পুনরুদ্ধারের বিবরণ দেখুন।
জলপাই পর্বত একই সঙ্গে সক্রিয় সমাধিক্ষেত্র ও ঐতিহাসিক স্থান। এর বিভিন্ন বিভাগ জেরুজালেমের ইহুদি সম্প্রদায়গুলোর সমাধি-অনুশীলন সংরক্ষণ করে; আর পরিবর্তনশীল সময়ক্রম গভীর ও বাস্তব সম্পর্ককে অসমর্থিত নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারের দাবিতে পরিণত করা থেকে বিরত রাখে।